মোবাইল কিনে টাকা লস করেন না তো?

By jahidul

Published on:

বর্তমান সময়ে মোবাইল একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ডিভাইসে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ফিচার ও সুবিধা থাকায় আমাদের জীবনে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। সঠিক দামে এবং সঠিক ব্র্যান্ডের মোবাইল কেনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। অনেকে মোবাইল কিনে টাকা লস করেন, তাদের জন্য কিছু টিপস দেয়া হলো যা তাদের এই লস থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে।

Table of Contents

মোবাইলের বাজেটের টাকা নির্ধারণ করুন

প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার বাজেটের টাকা নির্ধারণ করা। আজকাল বিভিন্ন ধরনের মোবাইল পাওয়া যায়, যা ভিন্ন ভিন্ন দামের হয়ে থাকে। বাজেট অনুযায়ী মোবাইল নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি বেশি দামি মোবাইল কিনে থাকেন, তবে তা বেশিরভাগ সময় অতিরিক্ত ফিচারের জন্য ব্যয় হবে, যেগুলি আপনার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। মোবাইলের বাজেট নির্ধারণ করে তা থেকে বাইরে না যাওয়ার চেষ্টা করুন।

ব্যবহারের উদ্দেশ্য বুঝে মোবাইল নির্বাচন করুন

মোবাইল কেনার আগে একেবারে স্পষ্টভাবে ভাবুন, আপনি কী উদ্দেশ্যে মোবাইলটি ব্যবহার করতে চান। যদি আপনি শুধুমাত্র যোগাযোগের জন্য মোবাইল ব্যবহার করেন, তাহলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ফিচার ও দামি মোবাইল কেনার প্রয়োজন নেই। যদি আপনি গেমিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো কাজ করেন, তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি শক্তিশালী মোবাইল দরকার হবে।

ভালো ব্র্যান্ডের মোবাইল নির্ধারণ করা

মোবাইল কেনার সময় কখনোই শুধুমাত্র দাম দেখে নির্বাচন করবেন না। বরং, মোবাইলের ব্র্যান্ডের প্রতি খেয়াল রাখা উচিত। কিছু ব্র্যান্ডের মোবাইল ভালো মানের এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। যেগুলি খারাপ মানের, তারা হয়তো কিছু কম দামে পাওয়া যায়, তবে তাদের সার্ভিস কিংবা বিল্ড কোয়ালিটি বেশিরভাগ সময় খারাপ থাকে। তাই, মোবাইল কেনার সময় একে অন্যের তুলনায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনের ফিচার ও রিভিউ দেখতে ভুলবেন না।

অন্যান্য পোস্ট গুলা পড়ূনঃ

বাজাজ পালসার এনএস ১২৫ দাম কত

জানুন ১ বিঘা কত শতাংশ জমি

মোবাইলের রিভিউ পড়ুন এবং অন্য মোবাইলের সাথে তুলনা করুন

এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনি মোবাইল কেনার আগে তার রিভিউ পড়েন এবং বাজারে অন্যান্য বিকল্প মোবাইলের সাথে তুলনা করেন। অনেক সময় নির্দিষ্ট মোবাইলের মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপন দেখে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, যা পরবর্তীতে আফসোসের কারণ হতে পারে। আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ইউটিউব ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রিভিউ দেখে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মোবাইলের দাম কমানোর উপায়

আজকাল অনেকেই মোবাইল কেনার জন্য বিশেষ অফার, ডিসকাউন্ট বা ক্যাশব্যাক ব্যবহার করেন। মোবাইলের দাম কমানোর জন্য কিছু মাধ্যম রয়েছে, যেমন অনলাইন শপিং সাইট, ডিসকাউন্ট কুপন বা সিজনাল অফার। আপনি যদি কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারেন, তবে মোবাইলটি সেল অথবা ফেস্টিভ অফারের সময় কিনতে পারেন। এইভাবে আপনি সস্তায় ভালো মানের মোবাইল পেতে পারেন।

সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল কেনার বিষয়ে সতর্কতা

বেশ কিছু মানুষ সেকেন্ড হ্যান্ড বা পুরনো মোবাইল কেনার কথা ভাবেন, কারণ তা সাধারণত অনেক সস্তা হয়। তবে, সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মোবাইলের অবস্থা, ব্যাটারি লাইফ, স্ক্রীন সমস্যা, অথবা কোনো হার্ডওয়্যার সমস্যা থাকলে, সেগুলোর প্রতি খেয়াল রাখুন। এছাড়া অনেক সময় চুরি হওয়া মোবাইল অনেকে বিক্রি করে। সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল কিনে আপনি হয়তো কিছু টাকা বাঁচাতে পারেন, তবে তা যদি সঠিকভাবে যাচাই না করেন, তাহলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

নতুন ফোনের রিলিজ চেক করা

আপনি যদি সবসময় নতুন ফোনের প্রতি আকৃষ্ট হন, তবে আপনাকে ফোনের রিলিজ সাইকেল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। একে অপরের কাছ থেকে নতুন ফোনের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্র্যান্ডগুলো বছরে একাধিক ফোন রিলিজ করে থাকে এবং প্রতিটি মোবাইলের কিছু মাসের মধ্যে আপগ্রেড বা নতুন ভার্সন বের হয়ে যায়। এর ফলে, পুরনো মোবাইলটি দ্রুত মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে। তাই নতুন ফোন কেনার আগে একটু সময় নিয়ে সঠিক ফোনের নির্বাচন করুন।

অপ্রয়োজনীয় ফিচার থেকে দূরে থাকুন

এখনকার মোবাইলগুলোতে এত বেশী ফিচার থাকে, যা অনেক সময় আমাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় হয়। যদি আপনি সাধারণ ব্যবহারের জন্য মোবাইল কিনে থাকেন, তবে দামি মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় ফিচারগুলোর জন্য টাকা খরচ করবেন না। অধিকাংশ সময়, মোবাইলের অতিরিক্ত ফিচারগুলি আমাদের ব্যবহারে আসেনা, এবং তা আমাদের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সঠিক সময় মোবাইল কেনার পরিকল্পনা

মোবাইল কেনার সময় সঠিক সময় বেছে নিন। যদি আপনার কাছে পুরনো ফোন থাকে, তবে সেটা কিছুটা সময় ব্যবহারের পর পরিবর্তন করুন। শীতকাল অথবা বিশেষ সেল অফারের সময় মোবাইল কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। কারণ, এই সময়গুলোতে মোবাইলের দাম কিছুটা কম থাকে, এবং আপনি সস্তায় ভালো মোবাইল পেতে পারেন।

মোবাইলের সেবা ও অ্যাক্সেসরিজ

মোবাইল কেনার পর অনেকেই তার সাথে বিভিন্ন অ্যাক্সেসরিজও কিনে থাকেন, যেমন ক্যামেরা লেন্স, পেইড সফটওয়্যার, কেস, চার্জার ইত্যাদি। এসবের দামও বেশ বাড়তে পারে। তাই, এসব অতিরিক্ত খরচ নিয়েও ভাবুন। যদি কোনো মোবাইল অ্যাক্সেসরিজের প্রয়োজন না থাকে, তবে তা কিনবেন না। এতে আপনার টাকা বাঁচবে।

কিভাবে অল্প টাকায় মোবাইল কেনা যায়

অল্প টাকায় মোবাইল কেনার জন্য কিছু কার্যকরী কৌশল রয়েছে যা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে। নিচে কিছু উপায় দেওয়া হলো, যার মাধ্যমে আপনি কম বাজেটে ভালো মানের মোবাইল কিনতে পারবেন:

সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিফার্বিশড মোবাইল কিনুন

সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিফার্বিশড (পুনঃপ্রস্তুত) মোবাইল কিনে আপনি অনেক কম দামে ভালো মানের ফোন পেতে পারেন। তবে, এটি কেনার আগে মোবাইলের অবস্থা ভালোভাবে চেক করে নিন। অনেক সময় এ ধরনের ফোনের সাথে ওয়্যারেন্টি বা রিটার্ন পলিসি থাকে, যা আপনাকে আরও নিরাপদে কেনাকাটা করতে সাহায্য করবে।

অফ-সিজন বা ডিসকাউন্টের সময় কিনুন

মোবাইলের দাম সেল, অফ-সিজন, অথবা উৎসবের সময় কম থাকে। বিশেষ করে বড় বড় ই-কমার্স সাইট বা দোকানে বছরে কিছু নির্দিষ্ট সময়সীমায় বিশেষ অফার ও ডিসকাউন্ট দেয়া হয়। এই সময়গুলোতে মোবাইল কিনলে আপনি অল্প টাকায় ভালো ফোন পেতে পারেন।

অফ ব্র্যান্ড বা বাজেট ফোন নির্বাচন করুন

অনেক সময় বড় ব্র্যান্ডের ফোনগুলোর দাম বেশি থাকে, কিন্তু কিছু ছোট ব্র্যান্ডও একই ফিচারের মোবাইল তৈরি করে, যা অনেক কম দামে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে যেমন ফিচার থাকে, তেমনই দামও অনেক কম। বাজেট ফোনগুলোর মধ্যে ভাল মানের ফোন পাওয়া সম্ভব, তবে রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

ফিচার পছন্দ অনুযায়ী ফোন নির্বাচন করুন

আপনাকে যদি শুধু ফোনের জন্যে ব্যবহার করতে হয়, তাহলে অতিরিক্ত ফিচারের ফোন কেনা থেকে বিরত থাকুন। যেমন যদি আপনি বেশি ক্যামেরা বা গেমিং পারফরম্যান্স না চান, তবে সেগুলোর জন্য বেশি দাম খরচ করার প্রয়োজন নেই। ফোনটির কোর ফিচার যেমন ব্যাটারি, স্টোরেজ, স্ক্রীন সাইজ এবং প্রসেসর যাচাই করে ফোন নির্বাচন করুন।

অনলাইন শপিং সাইট ব্যবহার করুন

অনলাইন শপিং সাইট যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, দারাজ, বাজার ইত্যাদিতে অফার ও ডিসকাউন্ট দেয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাশব্যাক অফার বা কুপন কোড ব্যবহার করে আপনি কম দামে মোবাইল কিনতে পারেন। তবে, এই সাইটগুলো থেকে কিনলে আগে রিভিউ দেখে নিন এবং সেলার বা বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করুন।

বিল্ক অফার ও পেমেন্ট প্ল্যান ব্যবহার করুন

কিছু ই-কমার্স সাইট বা দোকান অ্যাক্সেসিবল পেমেন্ট প্ল্যান বা EMI (ইক্যুইটেড মাসিক পরিশোধ) অফার করে থাকে, যেখানে আপনি মোবাইলের দাম পরিশোধ করতে পারেন কিস্তিতে। এতে আপনি একবারে বেশি টাকা খরচ না করে, অল্প টাকায় মোবাইল পেতে পারেন। তবে এই ধরনের পেমেন্ট প্ল্যানের শর্তাদি ভালোভাবে বুঝে নিন।

পুরনো ফোন বিক্রি করে নতুন ফোন কিনুন

অনেক সময় পুরনো ফোন বিক্রি করে নতুন ফোন কেনা অনেক উপকারি হতে পারে। বেশ কিছু প্ল্যাটফর্ম ও দোকানে পুরনো ফোনের সঠিক মূল্য পাওয়া যায়, যা নতুন ফোন কেনার সময় কিছুটা অর্থ বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে। এমনকি কিছু মোবাইল ব্র্যান্ড পুরনো ফোনের ট্রেড-ইন (বিনিময়) প্রোগ্রামও অফার করে।

ফোনের মডেল এবং ভার্সন চেক করুন

কিছু মোবাইল মডেল যখন নতুন ভার্সনে আপডেট হয়, তখন পুরনো মডেলগুলোর দাম কমে যায়। এই সময় পুরনো মডেল কিনলে আপনি সস্তায় ভালো ফোন পেতে পারেন। অবশ্যই, পুরনো মডেল কিনলে তা যেন ভালোভাবে কাজ করে এবং আপনি যে ফিচারগুলো চান, তা যেন থাকে।

ফোনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি যাচাই করুন

অল্প দামে মোবাইল কেনার সময় ফোনের রিপ্লেসমেন্ট বা সার্ভিস ওয়্যারেন্টি বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করুন। কারণ, সস্তায় কিনে পরে কোনো সমস্যা হলে সার্ভিস বা রিপ্লেসমেন্ট পেতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তবে কিছু ব্র্যান্ড কম দামে হলেও ভালো সার্ভিস অফার করে।

মোবাইল কেনার আগে গবেষণা করুন

মোবাইল কেনার আগে আপনি কিছু গবেষণা করে নিন। বিভিন্ন সাইট, ব্লগ, ইউটিউব ভিডিও বা রিভিউ দেখে মোবাইলের ফিচার এবং পারফরম্যান্স নিয়ে ধারণা নিন। এতে আপনি অপ্রয়োজনীয় মোবাইল কিনে টাকা নষ্ট না করে, সঠিক ফোন কিনতে পারবেন।

উপসংহার

মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে অনেকেই টাকা লস করে ফেলেন, তবে যদি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রেখে নির্বাচন করেন, তবে আপনি এই লস থেকে বাঁচতে পারবেন। আপনার বাজেটের মধ্যে ভালো মানের ফোন কেনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল কিনে আপনি কীভাবে টাকা লস করবেন না, তা সঠিকভাবে জানলে আপনি আরও অনেক বেশি উপকৃত হবেন।